আজকের নামাজের সময়সূচি: “আস-সালাতু ইমাদুদ দ্বীন”—নামাজ হলো দ্বীনের খুঁটি। একজন মুমিনের জীবনের প্রতিদিনের রুটিন সাজানো হয় মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে। ফজরের স্নিগ্ধতা দিয়ে দিন শুরু হয়, আর এশার প্রশান্তি দিয়ে দিনের সমাপ্তি ঘটে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।” (সূরা নিসা: ১০৩)।
আজকের নামাজের সময়সূচি
কিন্তু ব্যস্ততার এই যুগে বা ভ্রমণের সময় আমরা অনেক সময় সঠিক ওয়াক্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাই। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এবং ভৌগোলিক অবস্থানভেদে নামাজের সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। আপনি হয়তো ঢাকার সময় জানেন, কিন্তু চট্টগ্রামে বা খুলনায় তখন ওয়াক্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন।
আপনার এই আধ্যাত্মিক যাত্রাকে সহজ ও শৃঙ্খল করতেই আমাদের এই আয়োজন। এই আর্টিকেলে আপনি পাচ্ছেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রস্তুত করা আজকের নামাজের সময়সূচি। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার অবস্থান শনাক্ত করে আপনাকে জানিয়ে দেবে আজকের ফজর, জোহর, আছর, মাগরিব ও এশার সঠিক সময়। সাথে থাকছে নামাজ সম্পর্কিত জরুরি মাসআলা, নিষিদ্ধ সময় এবং জেলাভিত্তিক সময়ের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
আপনার এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (রিয়েল টাইম)
নিচে দেওয়া টুলটি আপনার বর্তমান লোকেশন বা জিপিএস (GPS) ব্যবহার করে একেবারে নির্ভুল সময় প্রদর্শন করছে। আপনাকে আর ক্যালেন্ডার খুঁজতে হবে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সময়সূচি আপনার ডিভাইসের জিপিএস (GPS) লোকেশন অনুযায়ী অটোমেটিক আপডেট হয়। সঠিক সময় পেতে অনুগ্রহ করে আপনার ব্রাউজারের লোকেশন পারমিশন ‘Allow’ করুন। যদি আপনি ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করেন, তবে সঠিক ফলাফলের জন্য তা বন্ধ রাখার অনুরোধ রইল।
আজকের নামাজের সময়সূচি | রিয়েল টাইম আপডেট
নামাজের সময়সূচি
… তারিখ লোড হচ্ছে…নামাজের ওয়াক্ত পরিচিতি ও সময়সীমা: কখন শুরু ও শেষ?
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার জন্য প্রতিটি ওয়াক্তের শুরু এবং শেষ সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান শাস্ত্রের আলোকে প্রতিটি ওয়াক্তের বিস্তারিত সময়সীমা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. ফজর (Fajr) – দিনের সূচনা
ফজরের নামাজ দিনের শুরুর বার্তা নিয়ে আসে। Fajr time in Bangladesh ঋতুভেদে ভিন্ন হয়।
- শুরুর সময়: আকাশের পূর্ব দিগেন্টে যখন আড়াআড়িভাবে সাদা আলোর রেখা দেখা দেয়, যাকে ইসলামি পরিভাষায় “সুবহে সাদিক” বলা হয়, তখন থেকেই ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। সেহরির শেষ সময় এবং ফজরের শুরু একই বিন্দুতে।
- শেষ সময়: সূর্যোদয়ের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ফজরের ওয়াক্ত থাকে। তবে মনে রাখবেন, সূর্য উদিত হওয়ার সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
- গুরুত্ব: হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করল, সে যেন সারা রাত নফল নামাজ আদায় করল।
২. জোহর (Dhuhr) – মধ্যাহ্নের বিরতি
সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর থেকে সামান্য পশ্চিমে ঢলে পড়ে, তখন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়।
- শুরুর সময়: সূর্য ঢলে পড়ার (Zawal) ঠিক পরমুহূর্ত থেকে।
- শেষ সময়: কোনো বস্তুর ছায়া তার মূল ছায়া বাদে দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত (হানাফি মাজহাব মতে) জোহরের ওয়াক্ত থাকে। বাংলাদেশে সাধারণত হানাফি মাজহাবের সময়সূচি অধিক প্রচলিত।
৩. আছর (Asr) – কর্মব্যস্ততার মাঝে প্রশান্তি
আছরের নামাজকে “সালাতিল উসতা” বা মধ্যবর্তী নামাজ বলা হয় এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম।
- শুরুর সময়: জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকেই আছরের ওয়াক্ত শুরু হয়। অর্থাৎ ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর থেকে।
- শেষ সময়: সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আছরের ওয়াক্ত থাকে। তবে সূর্যের রং হলুদ হয়ে যাওয়ার আগে (মাকরুহ ওয়াক্তের আগে) নামাজ আদায় করা উত্তম।
৪. মাগরিব (Maghrib) – দিনের বিদায়
সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই মাগরিবের সময় শুরু হয়।
- শুরুর সময়: সূর্য সম্পূর্ণভাবে দিগন্তে মিলিয়ে যাওয়ার পর।
- শেষ সময়: পশ্চিম আকাশে যতক্ষণ লাল আভা (শাফাকুল আহমার) বিদ্যমান থাকে, ততক্ষণ মাগরিবের ওয়াক্ত থাকে। সাধারণত সূর্যাস্তের পর থেকে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এই ওয়াক্ত স্থায়ী হয়।
৫. এশা (Isha) – রাতের প্রশান্তি
দিনের সব কাজ শেষে এশার নামাজ মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।
- শুরুর সময়: মাগরিবের লাল আভা সম্পূর্ণ মিলিয়ে যাওয়ার পর এশার ওয়াক্ত শুরু হয়। Isha prayer time schedule সাধারণত মাগরিবের দেড় ঘণ্টা পর শুরু হয়।
- শেষ সময়: সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত এশার ওয়াক্ত থাকে। তবে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে এশা আদায় করা উত্তম।
আরও পড়ুন: সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬: ক্যালেন্ডার, পরিকল্পনা ও বিধিমালা
নামাজের নিষিদ্ধ সময়সমূহ
ইসলামে শৃঙ্খলার গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ পড়া ফরজ, তেমনি কিছু নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ পড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। এই সময়গুলোতে শয়তান সূর্যের উপাসনা করে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। একে forbidden prayer times in Islam বলা হয়।
১. সূর্যোদয়ের সময়: সূর্য যখন উদিত হতে থাকে, তখন থেকে পুরোপুরি উপরে ওঠা পর্যন্ত (আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট)। এই সময়ে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। ২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় (জাওয়াল): সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপরে থাকে। এই সময়টি খুব অল্পক্ষণের জন্য স্থায়ী হয়। সূর্য একটু ঢলে পড়লেই জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। ৩. সূর্যাস্তের সময়: সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে অস্ত যেতে থাকে, তখন থেকে ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। তবে ওই দিনের আছরের নামাজ যদি কোনো কারণে পড়া না হয়ে থাকে, তবে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ মুহূর্ত হলেও তা আদায় করে নিতে হবে।
নোট: এই তিন সময়ে জানাজার নামাজ এবং সেজদায়ে তেলাওয়াতও আদায় করা মাকরুহ তাহরিমি।
জেলাভিত্তিক নামাজের সময়ের পার্থক্য কেন হয়?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, “টিভিতে আজানের সময় দেখলাম, কিন্তু আমার এলাকার মসজিদে এখনো আজান দেয়নি কেন?” এর কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান। পৃথিবী গোলাকার এবং এটি নিজ অক্ষের ওপর ঘুরছে, তাই সূর্যের অবস্থান একেক জেলায় একেক রকম হয়।
বাংলাদেশে ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো। আপনি যদি ম্যানুয়াল ক্যালেন্ডার বা ঘড়ি দেখে নামাজ পড়েন, তবে এই ছকটি আপনার কাজে লাগবে।
- পূর্বদিকের জেলাসমূহ (বিয়োগ করতে হবে): চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি (-৫ থেকে -৬ মিনিট), সিলেট (-৫ থেকে -৮ মিনিট), কুমিল্লা ও ফেনী (-২ থেকে -৪ মিনিট)।
- পশ্চিমদিকের জেলাসমূহ (যোগ করতে হবে): রাজশাহী (+৬ থেকে +৭ মিনিট), খুলনা ও যশোর (+৫ থেকে +৬ মিনিট), বরিশাল (+১ থেকে +২ মিনিট), রংপুর ও দিনাজপুর (+৭ থেকে +১০ মিনিট)।
প্রযুক্তির সহায়তায় সঠিক সময় জানতে আমাদের Tech News বিভাগের বিভিন্ন অ্যাপ রিভিউ দেখতে পারেন।
নফল নামাজের সময়সূচি (অতিরিক্ত সওয়াবের জন্য)
ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।
- তাহাজ্জুদ: এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে মধ্যরাতে বা শেষ রাতে উঠে যে নামাজ পড়া হয়।
- ইশরাক: সূর্যোদয়ের পর সূর্য যখন এক বর্শা পরিমাণ (আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট পর) ওপরে ওঠে, তখন ইশরাকের সময় শুরু হয়।
- চাশত বা দুহা: সূর্য যখন আকাশের এক-চতুর্থাংশ ওপরে ওঠে (সকাল ১০টা-১১টার দিকে)।
- আউয়াবিন: মাগরিবের নামাজের পর থেকে এশার ওয়াক্ত শুরুর আগ পর্যন্ত ৬ রাকাত নফল নামাজ।
আরও পড়ুন: ব্যাংকের ছুটির তালিকা ২০২৬ প্রকাশ: চাকরিজীবীরা ছুটি পাবেন ২৮ দিন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ফজর নামাজের শেষ সময় কখন? উত্তর: সূর্যোদয়ের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ফজরের নামাজ পড়া যায়। তবে সূর্য ওঠার সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজের উত্তম সময় কখন? উত্তর: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো তাহাজ্জুদ পড়ার সর্বোত্তম সময়। মহান আল্লাহ এ সময় বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য প্রথম আসমানে নেমে আসেন।
প্রশ্ন: জুমার নামাজের সময় আর জোহরের সময় কি এক? উত্তর: হ্যাঁ, জুমার নামাজের ওয়াক্ত জোহরের ওয়াক্তের মতোই। তবে জুমার দিন জোহরের পরিবর্তে মসজিদে জামাতের সাথে জুমা আদায় করা ফরজ।
প্রশ্ন: আকাশ মেঘলা থাকলে নামাজের সময় কীভাবে বুঝব? উত্তর: আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ঘড়ি বা আমাদের এই ওয়েবসাইটের রিয়েল টাইম শিডিউল দেখে নামাজ পড়া সবচেয়ে নিরাপদ। অনুমানের ওপর ভিত্তি না করে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাই শ্রেয়।
নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি মহান রবের সাথে বান্দার কথোপকথনের মাধ্যম। কর্মব্যস্ত জীবনে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা আমাদের আত্মিক প্রশান্তি দেয় এবং পরকালের মুক্তির পথ সুগম করে। আশা করি, আজকের নামাজের সময়সূচি এর এই রিয়েল টাইম আপডেট পেজটি আপনার প্রতিদিনের ইবাদতে সহায়ক হবে।
আপনার জন্য একটি ছোট অনুরোধ: এই পেজটি আপনার ব্রাউজারে বুকমার্ক (Bookmark) করে রাখুন। এতে প্রতিদিন নামাজের সময় খোঁজার ঝামেলা থাকবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
স্বচ্ছতা নোট (Transparency Note): এই পেজে প্রদর্শিত নামাজের সময়সূচি একটি অটোমেটেড অ্যালগরিদমের মাধ্যমে জিপিএস ডেটা ব্যবহার করে দেখানো হয়। যান্ত্রিক ত্রুটি বা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সময়ে সামান্য তারতম্য হতে পারে, তাই সর্বদা স্থানীয় মসজিদের আজানের সাথে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো।
“আজকের এই সময়সূচিটি আপনার কতটা উপকারে এসেছে? আপনার এলাকার সময় ঠিক দেখাচ্ছে তো? কমেন্টে জানান।”
- আজকের নামাজের সময়সূচি | রিয়েল টাইম সালাতের ওয়াক্ত (সকল জেলা)
- কাওসার নামের অর্থ কি? জান্নাতের নদী, অশেষ কল্যাণ ও কুরআনিক রহস্যের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- সাদিয়া নামের অর্থ কি? | ইসলামিক তাৎপর্য ও সঠিক ইংলিশ বানান
- ছেলের ইসলামিক নামের তালিকা: আপনার সন্তানের জন্য সেরা নামটি খুঁজুন
- Arian Name: আরিয়ান নামের অর্থ কি? নামটি রাখা কি আসলেই ইসলামিক?


